সর্বশেষ সংবাদ
Home » রাজনীতি » অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ইমেজ সংকটে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ইমেজ সংকটে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নিজ বলয়ে আধিপত্য বিস্তার ঘটাতে ক্রমেই সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে স্বেচ্ছাসেবক দল। স্বল্পসময়ে চমকে দেয়া বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের গতি অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। যদিও ব্যর্থতার জন্য ধীরে চলো নীতিকে দায়ী করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের হাতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের অবস্থা করুণ পর্যায়ে। তাই সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও ‘চেইন অব কমান্ড’ ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপির হাইকমান্ড। ঘোষণা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) আংশিক কমিটিও। অথচ কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যা হওয়ার তাই হয়েছে। যে বা যারা আংশিক কমিটির নেতৃত্বে এসেছেন তারা প্রায় সকলে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। পদে আসা নেতারা ব্যক্তিগত প্রয়োজন ব্যতীত সংগঠনে কারও খোঁজ খবর রাখছেন না। হচ্ছেন না দলীয় কার্যালয় মুখী। কর্মসূচি পালন করছেন দায়সারা ভাবে। ফলে অধিকাংশ তৃণমূল নেতারা রাজনীতির ভবিষ্যত ভাবনায় দিনদিন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

তারা বলেন, ‌‘ চলমান অবস্থা বিদ্যমান থাকলে খুব শিগগিরই সংগঠনের ইমেজ আরও সংকটে পড়বে। ফলে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) কাছে আবেদন করছি যেন, বিলম্ব না করে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তা না হলে এর জন্য ভবিষ্যতে চরম মূল্য দিতে হবে। কেননা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ সংগঠনের বিষয়ে বলেছিলেন, ‘সৎ নিষ্ঠাবান কর্মীদের সমন্বয়ে এই সংগঠনটি গড়ে তোলা হবে। এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, মহামারিসহ যেকোনও জাতীয় দুর্যোগ ও দেশের মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করবে। কোনও কাজেই তারা ব্যর্থ হবে না। অন্যরা যেখানে ব্যর্থ হবে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে এগিয়ে যাবে।’

সংগঠনটির সভাপতি শফিউল বারী বাবু ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, শিগগিরই জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ঘোষিত আংশিক কমিটিকে কীভাবে পূর্নাঙ্গ কমিটিতে রুপান্তরিত করা যায় সে ব্যাপারে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পিছিয়ে নেই দলের কার্যক্রম। তাই পরিবেশ কিছুটা অনুকূলে থাকলে পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া জেলা কমিটিগুলো নতুন করে গঠন করার ভাবনাও রয়েছে।’

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ জাতীয় ৬ষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিতব্য করার মাধ্যমে দাবি আদায়ে মাঠ দখল রাজনীতি শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির নেতারা। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং আংশিক করে দলটির অঙ্গসংগঠনের কমিটি ঘোষণার ফলে আরও বেশি স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চেইন অব কমান্ড ভঙ্গুর। দলীয় কর্মসূচিতেও নেই কোনও অগ্রগতি। বাস্তবতায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিরাজ করছে সন্দেহ আর হতাশা।

গত ২৭ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশক্রমে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এ আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছেন। কমিটিতে শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি এবং আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি করা হয়েছে ফখরুল ইসলাম রবিনকে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ। এবং দক্ষিণের সভাপতি করা হয়েছে এস এম জিলানীকে আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নজরুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দু’জন নগর নেতা ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি ও যুবদলের পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়া সেচ্ছাসেবক দলের পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়ার পিছনে প্রধান অন্তরায়। কারণ ছাত্রদল-যুবদল থেকে বাদ পড়া নেতাকর্মীদের সমন্বয়েই স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়ে থাকে। স্বেচ্ছাসেবক দলে কমিটি কিছুটা সময় নিয়েই এগোচ্ছে, এটা যেমন সত্য তেমনি আরেকটি সত্য হচ্ছে নেতৃত্বে গতিশীলতা আনতে মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) আংশিক কমিটিতে অভিজ্ঞদের সাথে নবীনদের সমন্বয় করা হয়েছে। যা আগামী দিনের রাজনীতিতে অবদান রাখবে। তবে আংশিক কমিটি ঘোষণায় প্রায় বছর হতে চলেছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি। বাস্তব সত্যকথা এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে রাজনীতিতে আগ্রহী নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সাংগঠনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জটিল হয়ে উঠছে। তাই যতদ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে তত মঙ্গল।

নেতারা বলেন, ইতোমধ্যে কমিটিতে পছন্দের নেতাদের বসাতে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সংগঠনটির সাংগঠনিক অবস্থান যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালের ১৯ আগস্ট, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কাজী সিরাজকে আহ্বায়ক করে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন নামে একটি অঙ্গসংগঠন গঠন করেন। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সালে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদকে আহ্বায়ক করে ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এবং ১৯৯৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নামকরণ করা হয়।

মন্তব্য

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*