Home » সারাদেশ » ভিড় নেই ঈদবাজারে

ভিড় নেই ঈদবাজারে

ঈদের মাত্র এক সপ্তাহ আগেও জমে উঠেনি রাজধানীর বিপণীবিতানগুলো, ক্রেতা খরায় ভুগছেন বিক্রেতারা।

ক্রেতা সমাগম না হওয়ার জন্য ‘বৈরী আবহাওয়া, বন্যা আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে’ দুষছেন তারা।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বিপণীবিতান ঘুরে শুধুমাত্র ‘অভিজাত বিপণীবিতান’ হিসেবে পরিচিত পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে কিছুটা ভিড় দেখতে পান এ প্রতিবেদক।

এদিন ‘আশানুরুপ’ ক্রেতা পাননি গাউছিয়া, চাঁদনি চক আর নিউমার্কেটের বিক্রেতারা। তবে দুপুরের পর থেকে নিউমার্কেট আর গাউছিয়ার ফুটপাতগুলোতে বেশ ভিড় দেখা যায়।
নিউমার্কেটের ফুটপাতের অস্থায়ী এক দোকান মালিক সোহরাব হোসেন বলেন, সকালের দিকে বেচা-কেনা কম হলেও বিকাল থেকে তা বেড়েছে।

গাউছিয়ার নূর ম্যানশনের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘জ্যোতি’র ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কেনা-বেচা একদমই নেই। নরমালি শুক্রবারে যেরকম ক্রেতা থাকে, তার চেয়েও কম ক্রেতা আসছে।”

রাজধানীতে নিয়মিত বৃষ্টির পাশাপাশি দেশজুড়ে বন্যার প্রভাবে বিক্রি কমেছে বলে ধারণা সালামের।

“ঢাকায় যারা আছেন, তারা হয়তো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি। কিন্তু গ্রামে তো তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আত্মীয়দের সহায়তার পাশাপাশি কোরবানির খরচ সামলিয়ে অনেকেই রমরমা কেনাকাটা করতে সক্ষম হবেন না, এটাই স্বাভাবিক।”

ফুটপাতে বিক্রি বেশি হওয়ায় স্থায়ী দোকানগুলোর ক্রেতা কমছে বলে মনে করেন নিউমার্কেটের রয়েল ট্রেডার্সের বিক্রয়কর্মী শাহ আলম।
“ফুটপাতে গিয়ে দেখেন কেমন ভিড়! আর আমাদের দোকান একেবারে ফাঁকা। দুপুরের পর থেকে কিছু কাস্টমার আসছে, কিন্তু অন্যান্যবারের তুলনায় খুবই খারাপ অবস্থা।”

এদিন বিকাল থেকে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে বেশ ভিড় দেখা গেলেও বিক্রি সে অনুযায়ী কম হয়েছে বলে জানালেন পাঞ্জাবির দোকান শরীফ কালেকশনের মালিক আলী শরীফ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এখন বিক্রি একেবারেই কম। গত ১৫-২০ দিন ধরে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও কমে গেছে। অন্য ঈদে যা বিক্রি হয়, তার ধারেকাছেও নেই এবার।”

বন্যার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও এর কারণ বলে মনে করেন তিনি।

“বাজারে তো আগুন, সবকিছুর দাম বেশি। পাবলিকের পকেটে তো টাকা নাই, ভাল পোশাক কিনবে কেমনে?”

এবারের ঈদবাজারে ১২০০-১৫০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান আলী শরীফ।
বসুন্ধরায় অন্য দোকানগুলোর চেয়ে পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় ছিল বেশি।

নারীদের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘এস্টেসি এক্সপ্রেসের’ শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, “আমাদের সারা বছরই ভালো বিক্রি হয়, এখন ঈদ সামনে রেখে স্বাভাবিকভাবেই বিক্রি একটু বেশি হচ্ছে।”

ঈদের পোশাক হিসেবে নারীদের মধ্যে কামিজের চাহিদা বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, তিন হাজার টাকার কামিজ বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ভিড় এমনিতেই বেশি থাকে জানিয়ে বিপণীবিতানটির পুরুষদের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘সেলাই ঘরের’ বিক্রয়কর্মী আকাশ বলেন, ঈদ সামনে হওয়ায় তা আরেকটু বেড়েছে। তবে ভিড় যেমন দেখা যাচ্ছে, বিক্রি ততটা জমজমাট না।

বৃষ্টির পাশাপাশি ব্যস্ততার কারণে এতদিন ঈদের কেনাকাটায় আসেননি বলে জানালেন পান্থপথের এই বিপণীবিতানে আসা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র মো. সাইফুদ্দিন।

“গত ঈদে পাঞ্জাবী কিনেছি, এবার সেজন্য প্যান্ট-শার্ট কিনলাম। বন্যা দেখা না দিলে হয়তো আরও কিছু কেনাকাটা করতাম।”

মন্তব্য

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*