সর্বশেষ সংবাদ
Home » জানা অজানা » শাজাহানপুরে বিনামূল্যের সরকারী ওষুধ ফার্মেসিতে বিক্রি! দেখার কেউ নেই

শাজাহানপুরে বিনামূল্যের সরকারী ওষুধ ফার্মেসিতে বিক্রি! দেখার কেউ নেই

মাসুম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় বিনামূল্যে বিতরনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারী ওষুধ ফার্মেসিতে বিক্রি হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাদলা বাজার এলাকায় একটি ফার্মেসি থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারী বিপুল পরিমান ওষুধ সহ সাগর হোসেন (২৫) নামে এক ওষুধ বিক্রেতাকে আটক করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তবে থানা পুলিশ তাকে বিষয়টি না জানানোয় ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আটক ওষুধ গুলোর মধ্যে ছিলো লুমনা ১০এমজি(মন্টিলুকাস্ট), সিডো প্লাস ৫০এমজি(এ্যামলোডিপিন), ন্যাপ্রক্স ৫০০এমজি, সেপ্রাডিন ৫০০এমজি, এ্যমোক্সাসিলিন ৫০০এমজি, সিপ্রোফ্লক্সসিন ৫০০এমজি, এ্যাজিথ্রোমাইসিন ৫০০এমজি সহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন সরকারী ওষুধ।
জানাগেছে, উপজেলার মাদলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) এনামুল হকের সঙ্গে সাগরের সখ্যতা রয়েছে। এবিষয়ে এনামুল হকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, সরকারী ওষুধ বিক্রেতা ফার্মেসির মালিক সাগর হোসেন তার শ্বশুর বাড়ির দিকের আত্বীয় তবে ওষুধ বিক্রীর সাথে তার কোন হাত নেই। ওই ওষুধ গুলোর মধ্যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা ওষুধের একটিও নেই।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কর্মীরা জানান, অনেক বছর ধরে সরকারী ওষুধ চুরি করে বাজারে বিক্রি হয়ে আসছে। এসব ব্যপারে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। ওষুধ বিক্রির সাথে অনেকেই জড়িত থাকে এবং চক্রটি খুবই শক্তিশালী বলে তারা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নেওয়া একাধিক উপজেলাবাসী জানান, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্যারাসিটামল, এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ দিয়ে তাদেরকে বিদায় করে দেয়া হয়। জীবন রক্ষাকারী দামী ওষুধগুলো তাদের জন্য সরকার বিনামূল্যে দিয়েছে এটা তাদের জানাই নেই। বেশির ভাগ সময় তাদের বলা হয় ওষুধ নেই এবং দামী ওষুধ গুলো তাদেরকে ফার্মেসি থেকে কিনতে বলা হয়।
শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মোতারাব হোসেন জানান, ওষুধ আটকের ব্যপারে থানা থেকে তাকে এখনো কিছুই জানানো হয়নি। থানা পুলিশ তাকে না জানানো পর্যন্ত তিনি ব্যবস্থা নিবেন না।
বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসের উপ-পরিচালক ডাক্তার মোঃ ওয়াদুদ মোবাইল ফোনে জানান, বিষয়টি তিনি দেখবেন।

মন্তব্য

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*