সর্বশেষ সংবাদ
Home » রাজশাহী » শাজাহানপুর মহাসড়কে বন্ধ হয়নি থ্রি-হুইলার ভূতের খাতায় টাকা জমা!

শাজাহানপুর মহাসড়কে বন্ধ হয়নি থ্রি-হুইলার ভূতের খাতায় টাকা জমা!

শাজাহানপুর মহাসড়কে বন্ধ হয়নি থ্রি-হুইলার ভূতের খাতায় টাকা জমা!

মাসুম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে থ্রি-হুইলার চলাচল এখনো বন্ধ হয়নি বগুড়া শাজাহানপুর মহাসড়কে। এখনো মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ব্যাটরিচালিত থ্রি-হুইলার(ইজিবাইক) ও মোটর চালিত রিক্সাগুলো। হিউম্যান হলার(লেগুনা) মালিক সমিতির চাপে থ্রি-হুইলার থেকে টাকা আদায়ের কৌশর পরিবর্তন করেছে পুলিশ। অপরদিকে ওই মালিক সমিতির নামে ভূতের খাতায় টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছে লেগুনা চালকরা। এদিকে থ্রি-হুইলার চালকদের অভিযোগ গাড়ি গ্যারেজ করতেও কৈগাড়ি ফাঁড়ির পুলিশদের টাকা দিতে হয়।
জানাগেছে, মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে শাজাহানপুর মহাসড়কসহ দেশের ২২টি মহাসড়কে থ্রিহুইলার, অটোরিক্সা, অটোটেম্পু ও অযান্ত্রিক যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুলিশকে ম্যানেজ করে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। মাঝে মধ্যে থ্রি-হইলার আটক করে মামলা দিতে দেখা যায়। এর কারণ পুলিশের বেধে দেয়া সময়ের আগেই মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের চলাচল। সন্ধ্যার পূর্ব মূহুত্ব পর্যন্ত মহাসড়কে চলবে লেগুনা আর সন্ধ্যা হলেই দাপিয়ে বেড়াবে থ্রি-হুইলার এটাই পুলিশের বেধে দেয়া সময় ও নিয়ম। দিনে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করলে লেগুনার চালকরা যাত্রী পায়না। একারণে পুলিশের সঙ্গে যোগসাজস করে এ নিয়ম করে নিয়েছে তারা। হঠাৎ কোনদিন দিনের আলোতে সড়কে থ্রি-হুইলার ও অটোরিক্সার সংখ্যা বাড়লে তখন এসব যান আটকে পুলিশকে তৎপর দেখা যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রেখে থ্রি-হুইলারগুলো ছেড়ে দেয়া হয়। তবে আতংক সৃষ্টির করতে মাঝে মধ্যে আটক কয়েকটি গাড়িতে মামলা দেয়া হয়। দিনে যদি কোন থ্রি-হুইলার চালক মহাসড়কে চলতে চায় তাহলে নির্ধারিত টাকার চেয়েও বেশি টাকা আদায় করে কৈগাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। উপজেলার বনানী স্ট্যান্ডে এসব থ্রি-হুইলার চালকদের কাছ থেকে টাকা নেয় পুলিশ। মহাসড়কে চলাচলের জন্য কৈগাড়ি ফাঁড়ির পুলিশকে দিতে হয় থ্রি-হুইলার প্রতি ৬০(ষাট)টাকা। এছাড়াও বনানী স্ট্যান্ড থেকে যেসব থ্রি-হুইলার চালকরা বগুড়া শহরে যাত্রী নিয়ে যায় তারা গাড়ি গ্যারেজ করতেও বিপাকে পড়ে। স্ট্যান্ড থেকে হাফ কিলোমিটার দূরত্বে কয়েকটি গ্যারেজ রয়েছে। তবে ওই হাফ কিলোমিটার সড়ক মহাসড়কের মধ্যে পড়ায় তাদেরকেও কৈগাড়ি ফাঁড়ির পুলিশকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। অপরদিকে লেগুনা চালকদের থেকে চেইন স্লিপের নামে দিনে ৩০০(তিনশত)টাকা করে আদায় করে হিউম্যান হলার(লেগুনা) মালিক সমিতি। বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় প্রায় ৬০(ষাট)টি লেগুনা চলাচল করে। ৩০০(তিনশত)টাকা কেন নেয় মালিক সমিতি আর এই টাকা দিয়ে কি হবে এব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননা লেগুনা চালকরা। অনেক চালক টাকা দেয়ার ভয়ে মাঝে মধ্যে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়না। এদিকে শাজাহানপুর ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে হতাহত হয় পথচারী, যাত্রী ও চালকসহ অনেকেই। এসব নিষিদ্ধ যানবাহন ও লেগুনার চালকরা অদক্ষ কিশোর ও নেশাগ্রস্ত। তাদের হাতে গাড়ির স্ট্যায়ারিং থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক থ্রি-হুইলার চালক জানিয়েছেন, পুলিশকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তারা মহাসড়কে চলাচল করছে। মহাসড়কে দিনে চলাচল করার জন্য মাঝে মধ্যে পুলিশ সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়ি আটক করে রাখে। এছাড়াও গাড়ি শহরের রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল শেষে গ্যারেজে আসতেও পুলিশ টাকা নেয়।
হিউম্যাান হলার(লেগুনা) চালকরা জানিয়েছেন, মালিক সমিতি তাদের কাছ থেকে চেইন স্লিপের নামে প্রতিদিন তিনশত টাকা করে আদায় করে। এ কারণে তারা মাঝে মধ্যে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখে। প্রভাবশালীরা মালিক সমিতিতে থাকায় ভয়ে তারা কিছুই বলতে পারেননা। তারা আরও জানায় টাকা গুলো ভূতের খাতায় জমা হয়! একারণে টাকা দিয়ে কি হয় বা কি হবে তারা কিছুই বলতে পারেননা।
উপজেলাবাসী বিপ্লব হোসেন বিপুল, রাকিবুল হাসানসহ নানা পেশাজীবীরা জানিয়েছেন, থ্রি-হুইলার ও লেগুনা চালকরা কিশোর ও অদক্ষ এবং তারা বেপরোয়া গাড়ি চালায়। এতে জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তারা এসব যানে চলাচল করেন।
গ্যারেজ মালিক ইব্রাহীম হোসেন খোকন ও সুরুজ্জামান জানিয়েছেন, অধিকাংশ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং কিশোর ও নেশাগ্রস্থ চালকের সংখ্যাই বেশী।
শাজাহানপুর উপজেলা হিউম্যান হলার মালিক সমিতির সভাপতি প্রভাষক সোহরাব হোসেন সান্নুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ টাকা আদায় করে এবিষয়ে তার কিছু জানা নেই। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ। অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলা দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*