Logo
সংবাদ শিরোনাম :
ফাপোর আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টে অনুষ্টিত। টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে বিশ্বমানবতার নেত্রী ছাত্রদলে মিছিলে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল নওগাঁয় ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার গাজীপুরে গোডাউনে মিলল টিসিবি পণ্য চীনে ১৩৩ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত বগুড়ায় পিকনিকে হামলা করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা একশত টাকা মূল্যমানের প্রাইজ বন্ডের ১০৬তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত !! বগুড়া শহরে প্রথম চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেন বিক্রি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেত্রী মাহবুবা নাসরিন রুপাকে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার




এখন আর দেখা যায় না কিশোরীর শাপলা ফুলের মালা গাঁথা

প্রতিবেদকের নাম :
আপডেট করা হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৮

এখন আর দেখা যায় না কিশোরীর শাপলা ফুলের মালা গাঁথা

মাসুম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: গ্রাম-বাংলার হাওর বিল ডোবা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। এখন আর চোঁখে পরে না মেঠো পথের পাশে কোন ডোবা বা বিলে উচ্ছল কিশোর-কিশোরীর শাপলা তুলে মালা গাঁথা আর একমুঠো শাপলা ফুল হাতে বাড়ি ফেরার দৃশ্য। বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জের অনেক পুকুর-ডোবা ভরাট হয়ে যাচ্ছে আর সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অনেক ফসলি জমি যেমন কমে যাচ্ছে ঠিক তেমনি পুকুর বা ডোবার সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। আর তাই আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে যেতে বসেছে। সাধরণত তিন রঙের শাপলা ফুল রয়েছে এরমধ্যে সাদা শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খাল-বিলে একসময় শাপলা ফুল দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে কল-কারখানা বৃদ্ধিতে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওর সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে এছাড়াও কৃষি জমিতে অধিক পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার মানুষের চিরচেনা জাতীয় ফুল শাপলা। আর তার সঙ্গে বিপন্নের পথে শাপলার ফল ‘ঢ্যাপ’। আঞ্চলিক নামে শাপলার ফলকে কিছু কিছু এলাকায় ‘ভেট’ বলা হয়ে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এক সময় উপজেলার হাওর-বিলে প্রচুর শাপলা ফুল ফুটতো। প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত শাপলা জন্ম নিতো। লাল ও সাদা শাপলা ফুল দেখে তারা মুগ্ধ হতেন। বর্তমানে শাপলা ফুল আর তাদের চোখে পড়ে না।
উপজেলার প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, ১৯৮৫-৯০ সাল পর্যন্ত উপজেলার খাল-বিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল দেখা যেত। সেসময় কিশোর-কিশোরিরা এই ফুল দিয়ে মালা গেঁেথ গলায় পড়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতো। বাড়ি ফেরার সময় অনেকেই শাপলা ফুল হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতো। বর্তমানে এসব দৃশ্য আর দেখা যায় না। শাপলার ফল ঢ্যাপের ভিতর ছোট ছোট বীজ থাকে। ওই বীজ গুলো ভেঙ্গে নিয়ে রোদে শুঁকিয়ে খই ভেজে খাওয়া হতো। এই খই খুবই সুস্বাদু ছিলো।
উপ-সহকারি কৃষি অফিসার এসএম আল-আমিন জানান, সাধারণত শাপলা তিন ধরণের হয়ে থাকে সাদা, বেগুণি ও লাল রঙের। এর মধ্যে সাদা ফুলের শাপলা সবজি হিসেবে এবং লাল রঙের শাপলা ওষুধি কাজে ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিমানে শাপলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি সবজি। সাধরণ শাক-সবজির চেয়েও এর পুষ্টিগুণ বেশী। এতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আলুর চেয়েও সাতগুণ বেশী। খাল-বিল ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক জলাভূমি ধ্বংসের কারণে জাতীয় ফুল শাপলা আজ বিলুপ্তির পথে।

মন্তব্য

মন্তব্য





এই ধরনের আরও খবর

ফেসবুকে আমরা




Theme Created By ThemesDealer.Com