করোনা ভাইরাসের সাধারণ ছুটি এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে নিয়ে ঈদ উদযাপন শেষে ধীরে ধীরে কর্মস্থল ফিরতে শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষ। শনিবার (৩০মে) সকাল ১০টা থেকে টানা ১ঘন্টার অবিরাম বৃষ্টিতে বগুড়ার মহাস্থান মহাসড়কে হাটুপানিতে পরিনত হয়েছে। সাধারণ ছুটি এ মাসেই শেষ হওয়ায় এবং ঈদের আমেজ কেটে যাওয়ায় অনেকেই করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প যানবাহন হিসেবে হাজার হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে ফিরেছেন কর্মস্থলে।বৃষ্টি শেষে দেখা যায় বগুড়ার মহাস্থান মহাসড়কে এখন রাজধানীমুখী মানুষের চাপ। সকাল থেকে ভিড় বেড়েছে ব্যক্তিগত যানের। সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পরপরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাকুরী জীবি বহু মানুষেরা ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।শনিবার সকাল থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ার মহাস্থানগড় মহাসড়কে বৃষ্টিতে আটকে থাকা মানুষদের ভিড় বেড়েই চলছে। তবে এখনও কোন যাত্রীবাহী বাস এই সড়কে চলাচল করতে দেখা যায়নি।বাস ছাড়া বাকি সব ধরণের যানবাহন চলাচল করছে।সাধারন ছুটি ঘোষণার পর বিশেষ করে বগুড়ার মহাসড়কে কর্মস্থল ফেরা মানুষদের উপচেপড়া ভিড়। বৃষ্টির বিড়ম্বনা মাথায় নিয়েই দেখা গেছে কর্মস্থলমুখো মানুষের ঢল।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মমুখী এক দাম্পত্যির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ঘণ্টাখানেক বৃষ্টির কারনে তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে তারা গনপরিবহনে না গিয়ে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে একটু কষ্ট হলেও সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন।তবে বেশিরভাগ চাকুরী জিবী ফিরছেন ব্যক্তিগত গাড়ি মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপ করেই। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই তারা ফিরছেন ভাড়া করা বিভিন্ন গাড়িতে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব গাড়িতে স্বাস্থ্য নির্দেশনা মানা হয়নি। একেকটি প্রাইভেটকারে ৫ জনের জায়গায় ৭ থেকে ৮ জন চেপে বসতে দেখা গেছে।গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যারা গিয়েছিলেন ঈদ করতে তাদের এখন বেশি দেখা যাচ্ছে।উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে শর্তসাপেক্ষে প্লেন ও গণপরিবহন চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। ৩১ মে থেকে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত চলাচল সীমিত করে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।